শনিবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. English Version
  2. Gov. Job
  3. Jobs News
  4. TOP JOBS
  5. অনলাইন টিউটরিয়াল
  6. অপরাধ সংবাদ
  7. ইপিজেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
  8. গার্মেন্টস্ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
  9. গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ
  10. জাতীয় সংবাদ
  11. পরীক্ষার ফলাফল
  12. বিদেশে চাকুরি
  13. বিভাগীয় সংবাদ
  14. বেসরকারি চাকুরি
  15. ভাইরাল সংবাদ

আগামীকাল থেকে আবারও মুখরিত হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্রতিবেদক
বাংলা সার্কুলার
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আগামীকাল থেকে আবারও মুখরিত হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিধিতে কি কি থাকছে?

আগামীকাল থেকে আবারও মুখরিত হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারের তরফ থেকে ১৯ দফার যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করলে ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় টিকা নেওয়া ও মাস্ক পরিধানের কোনো বিকল্প নেই। দেশের মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বাণিজ্যিক ও কর্মপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশপথে হাত স্যানিটাইজড করা এবং শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার বিষয়টি খুবই দায়সারাভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ছাত্র/ছাত্রীদের নিরাপদ ও রোগ জীবাণুমুক্ত রাখতে এ কাজটি সত্যিকার অর্থেই সুসম্পন্ন করতে হবে।

প্রতিদিন নতুন মাস্ক ক্রয় সকলের সম্ভব?

গ্রাম অঞ্চলে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের প্রতিদিন নতুন মাস্ক পরিধানের সামর্থ্য নেই। অনেকেই একটি সার্জিক্যাল মাস্ক দিনের পর দিন ব্যবহার করে থাকে, আর কাপড়ের মাস্ক যে নিয়মিত ধুয়ে এবং পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে হয় সেটিও অনেকের জানা নেই। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তরফ থেকে অভাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহের জন্য দরকার হলে আলাদা বরাদ্দের ব্যবস্থা করে তা সম্পন্ন করতে হবে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে দৌড়-ঝাঁপ করবে, খেলাধুলা করবে, ফলে মাস্ক হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের স্কুলব্যাগে যেন বাড়তি মাস্ক থাকে, অভিভাবকদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা আবশ্যক

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গো মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, দরজা-জানালা, বাথরুমসহ পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার তো করতেই হবে একইসঙ্গে অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর টিনের চাল ও কাঠ-বাঁশের সিলিং ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং মেঝে কাঁচা মাটির তৈরি হলে লক্ষ রাখতে হবে কোথাও যেন কোনো গর্ত এবং মাটি উঠে না থাকে।

কারণ এসব গর্ত ও সিলিংয়ের ফাঁকে সাপ বা কীটপতঙ্গ আস্তানা গেড়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি রাজশাহী এবং পদ্মা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের উপদ্রব বেড়েছে এবং এ সাপ অনেকের প্রাণও কেড়ে নিয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী ও ঝোপ-জঙ্গল পরিবেষ্টিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে একটু বাড়তি নজর রাখতে হবে।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হচ্ছে ১৩ সেপ্টেম্বর। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু মেডিকেল কলেজই এখন খুলছে। কয়েক দিন আগে মেডিকেল শিক্ষার্থী আমার বড় কন্যাকে ভ্যাকসিন দিতে নির্ধারিত এক মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়েছিলাম।

ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশ পথ

সেখানে একই প্রবেশপথ দিয়ে করোনা রোগী, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সবাই প্রবেশ করেছেন। অসতর্ক মুহূর্তে একজনের সঙ্গে আরেকজনের শরীর লেগে যাচ্ছে, একজনের নিশ্বাস আরেকজনের নাক ছুঁয়ে যাচ্ছে, ফলে ঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে হাসপাতাল ও কলেজ সেকশন অনেক ক্ষেত্রেই একই ভবনে অবস্থিত। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে তাদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ আলাদা করে দিতে হবে।

বাসায় বসে অনলাইন ক্লাসে বিধিবদ্ধ পোশাক নিয়ে কারও কোনো বাড়তি চিন্তা ছিল না। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় প্রায় প্রত্যেকের নতুন ড্রেস ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র দরকার হয়ে পড়েছে। তাই অভিভাবকদের ব্যস্ততাও হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের ড্রেস, জুতা ছোট হয়ে গেছে, স্কুলব্যাগ ছিঁড়ে গেছে, ময়লা হয়ে গেছে। তাই এসব জোগাড়ে মায়েরা দোকানে দোকানে ঘুরছেন, দর্জির কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

মা’ অভিভাবকদের উপর বাড়তি ছাপ

বাচ্চাদের সঙ্গে টিফিন বেঁধে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন আইটেম কিনে ফ্রিজ ভরিয়ে ফেলছেন। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, এ যেন এক মহাযজ্ঞ। স্কুলের ছেলেমেয়েদের কথা বাদই দিলাম, কলেজপড়ুয়া সন্তানদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়া, বইয়ের ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া, টিফিন রেডি করা, লেখাপড়া করার সময় পাশে বসে থাকা, প্রাইভেট টিউটর জোগাড় করা- সবই এখন মা অভিভাবকদের অতিরিক্ত কাজ হয়ে পড়েছে। তাই তাদের ব্যস্ততায় বাসা-বাড়িগুলোও সরগরম হয়ে উঠেছে।

মহামারির এ দুঃসময়ে একাধিকজনের একই বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা, একই স্যান্ডউইচে কামড় দেওয়া, অন্যান্য খাবার খাওয়া বা এ ধরনের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হরেকরকমের ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ অস্থায়ী দোকান খুলে, কেউ আবার ফুটপাথে মনোহারি সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন, অনেকে আবার ভ্যানে করে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেসে থেকে পড়ালেখা করে। করোনার শুরুতে তাদের অনেকেই বিছানাপত্র মেসে রেখেই বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ মেস ভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি, আবার রুমের দখলও ছাড়েনি। এতে মেস মালিক যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, একইভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে মেসে না থেকেই ভাড়া গুনতে হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে এসব জটিলতার অবসান ঘটবে।

কতটুকু থাকবে সুরক্ষা

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় স্কুল খুলে দেওয়ার পর শিশুরা ব্যাপকহারে সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদেরও এ বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে যেন শিশুরা বিপদগ্রস্ত না হয়। আশার কথা, আমাদের সরকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভেবেচিন্তে প্রতিটি পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

প্রায় দেড় বছর ধরে শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, প্রাইভেট কোচিং, গ্রুপ কোচিং ও পরীক্ষায় হাঁপিয়ে উঠেছে। কোনো শিক্ষক রাত ১০-১১টায়, কেউ আবার ভোর ৭টায় ক্লাস নিচ্ছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমেই অনলাইনে যুক্ত হতে হচ্ছে। কয়েকঘন্টা একদৃষ্টিতে ছোট্ট একটি ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

অনেকেই সারা রাত জেগে থাকছে, সারাদিন ঘুমাচ্ছে, দৈনিক রুটিনই পরিবর্তন হয়ে গেছে। মাথাব্যথা, অলসতা ও অস্বস্তি নিয়ে ঘুম থেকে উঠছে। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বিষণ্নতায় ভুগছে। প্রত্যাশা করি, স্কুল-কলেজ খুলে যাওয়ায় এ সন্তানেরা আবার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের স্বাদ উপভোগ করতে পারবে।

রোববার থেকে দেশের স্কুল-কলেজগুলোয় সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে। প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কেজিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি এ মুহূর্তে বন্ধ থাকছে। স্কুলগুলোয় আপাতত কোনো অ্যাসেম্বলি না হলেও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা চালু রাখা হবে।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর হতে সংকলিত

সর্বশেষ - বিদেশে চাকুরি