শনিবার , ৩১ জুলাই ২০২১ | ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. English Version
  2. Gov. Job
  3. Jobs News
  4. TOP JOBS
  5. অনলাইন টিউটরিয়াল
  6. অপরাধ সংবাদ
  7. ইপিজেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
  8. গার্মেন্টস্ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
  9. গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ
  10. জাতীয় সংবাদ
  11. পরীক্ষার ফলাফল
  12. বিদেশে চাকুরি
  13. বিভাগীয় সংবাদ
  14. বেসরকারি চাকুরি
  15. ভাইরাল সংবাদ

কিভাবে ফাঁস হচ্ছে ফোনালাপ; বিবিসি ও আইনমন্ত্রী

প্রতিবেদক
বাংলা সার্কুলার
জুলাই ৩১, ২০২১ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
বিবিসি ও আইনমন্ত্রী, বিবিসির সংবাদ প্রবাহ, ফোনে আড়িপাতা,

গত ৩০ জুলাই বিবিসি প্রবাহ সংবাদ অনুষ্ঠানে প্রশ্নপর্ব

কিভাবে বাংলাদেশে ফাঁস হচ্ছে ফোনালাপ

কিভাবে ফাঁস হচ্ছে ফোনালাপ এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় আইন মন্ত্রী মহোদয় এবং বিবিসি প্রবাহ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শারিমন রহমান। সম্প্রতি পেগাসাস নামে ইজরাইলি একটি স্পাইওয়্যার  ব্যবহার করে মোবাইলে আড়িপাতা  এবং   নজরদারিতে  বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি  করেছে।  কারণ বিশ্বের প্রায় 50টি দেশের হাজার হাজার   ফোনে  আড়ি পেতে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এ প্রযুক্তির সাহায্যে। 

এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের আছে কিনা তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে পেগাসাস থাকুক আর নাই থাকুক  এদেশে প্রায়ই ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যম  ও গণমাধ্যমে ব্যক্তির ফোনালপ  ফাঁস হচ্ছে । এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের আছে কিনা তা নিয়েও চলছে আলোচনা বিবিসির আবুল কালাম আজাদ জানার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশে এটা কি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে? এ ক্ষেত্রে আইনী সুরক্ষাই বা কতটা আছে?

বাংলাদেশে ফোনালাফ

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিল। যার মাধ্যমে তিনি বেশ বিতর্কিত হয়ে পড়েন। যে ফোনালাপের কারণে তার নামে মামলা হয়েছিল। বাংলাদেশে ফোনালাপে ফাঁস হওয়া বেশিরভাগই বিতর্কিত কথাবার্তা ব্যক্তিগত দূর্বলতা বা চক্রান্ত প্রকাশ্যে এসেছে। এসব ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় তারা বেকায়দায় পড়েছেন বা বিব্রত হয়েছেন। মোবাইল ফোনে আড়িপেতে যাদের গোপন কথা ফাঁস হয়েছে তার অধিকাংশই সরকারের সমালোচক। এসব ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় সেটি ক্ষমতাসীনদের পক্ষে গেছে বা সুবিধা দিয়েছে।

ফোনে আড়িপাতাঃ

তবে বাংলাদেশের কেউ এ প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি শিকার হয়েছেন কিনা সেটি নিশ্চিত হয়নি আর বাংলাদেশ সরকারও  এটি স্বীকার করেনি।  বাংলাদেশের তথ্য যোগাযোগের গোপনীয়তার ক্ষেত্রে ফোনে আড়িপাতা বা প্রকাশ করা দন্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ফোনে আড়িপাতার জন্য 2 বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ 5 কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে।

বিবিসির উপস্থাপিকা শারমিন রহমান আইনমন্ত্রী জনাব আনিসুল হক সাহেবের প্রশ্ন ও উত্তরঃ

বিবিসিঃ কথা বলার সময় দেখেছি প্রায় সময় দেখা যাচ্ছে যে ফোনালাপ ফাঁস তারপর টেক্সট মেসেজ ফাঁস, এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমরা দেখচি যে,  অনেক স্পর্শ কাতর বিষয়ও চলে আসে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় কারা করছে এগুলো জানা যাচ্ছে না। আইনগত ভাবেই এগুলো চ্যালেঞ্জ হয় না, আইনগত ভাবে কি আচে এ ধরনের ঘটনার?

আইনমন্ত্রী বলেনঃ  

ধন্যবাদ আমাকে এই প্রশ্ন করার জন্য। আইন মন্ত্রী বলেন, আমি যেটা এ ব্যাপারে জানি সেটা হচ্ছে  সকল রাষ্ট্রে সকল দেশেই এ ধরনের আড়িপাতার  জন্য  আইনে  একটা ধারা রাখা হয় বিধান রাখা হয় রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্ব  প্রয়োজনে।  

অনেক জরুরী অবস্থায় এ বিধান  প্রয়োগ করতে হয়।  এবং সেটা কাজে লাগিয়ে তখন তারা যে তথ্য পেয়ে থাকেন সেটা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  আমাদের দেশে সেই রকম ভাবেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ  আইনের বিধান আছে।  যেটাকে আমরা  তথ্যপ্রযুক্তি  নিরাপত্তা আইন বা ডিজিটাল অ্যাক্ট। 

এ দুটো আইনের  মধ্যে  সরকারের অনুমতি  প্রয়োজন রয়েছে।  সরকারি অনুমতি ছাড়া এবং সরকারি সংস্থা ছাড়া এটা কেউ করতে পারবে না।  বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা আছে যে, সরকার বলতে এখানে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বা স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে বুঝানো হবে। আর আইসিটি এ্যাক্ট এ কমিশন আছে, টিম আছে এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে এটা করতে হবে।  সেটা প্রফেশনাল সরকারি সংস্থা হতে হবে এটা কোন ব্যক্তি সংস্থা বা ব্যক্তিগতভাবে এটা কেউ করতে পারবে না।

আরো খবর ও তথ্য দেখুনঃ

প্রশ্ন বিবিসিঃ তাহলে তৃতীয় পক্ষ যে ফোনালাপ ফাঁস করছে সেটা কি সরকারি সংস্থা এটা করছে না?

আইনমন্ত্রীঃ অনুমতির কথাটা বললাম, এ অনুমতি মৌখিক অনুমতি হবে না অনুমতি লিখিত থাকতে হবে। আর মৌখিক অনুমতি হলেও থাকতে হবে। যাদের কথা রেকর্ড করা হচ্ছে তাদের মধ্যেই যে কেহ রেকর্ড করে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে। 

প্রশ্নঃ সম্প্রতি পেগাসাস স্পাইওয়ার ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী  আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বব্যাপী আলোচনা  হচ্ছে অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ফোন সেখানেও স্পাইওয়ার দিয়ে নজরদারি করা হয়েছে। যদিও এখানে বাংলাদেশের নাম আসেনি কিন্তু বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আলোচনা রয়েছে আর সরকার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

আইনমন্ত্রীঃ আপনার প্রশ্নের মধ্যেই জবাব নিহিত রয়েছে। ব্যাপারটি হচ্ছে বাংলাদেশে পেগাসাস নাই। যারা এ তথ্য দিয়েছেন তারাই এটি স্বীকার করেছেন। আমি যেটা বলতে চাই সেটা হল বাংলাদেশে কোন পেগাসাস সফটওয়ার ব্যবহার হয় না।

প্রশ্নঃ যেখানে একটি ফোনালাপ ফাঁস হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই এখানে ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্গন হয়, সে ক্ষেত্রে এগুলো খুব একটা চিহ্নিত হয়না, সেটি কেন?

আইনমন্ত্রীঃ আমার মনে হয় কমপ্লেইন আসে কম। যদি এটা নিয়ে সামাজিকভাবে যে রকম প্রচার করা হচ্ছে, সে রকম কোন অভিযোগ আসতো তাহলে সরকার অবশ্যই এটার ব্যবস্থা নিত। তবুও এটা নজরে পড়েছে সরকারের। যে রকম সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যাচার, চরিত্র হরণ করা হচ্ছে সে জন্য সরকার চিন্তা ভাবনা করছে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। 

প্রশ্নঃ সরকার প্রায় সময় প্রতিপক্ষকে নজরদারি করছেন, সে বিষয়ে কি বলবেন?

মন্ত্রীঃ অভিযোগ যদি করা হয়, তাহলে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং তদন্ত হলে যে ফলাফল সেটাকে মানাই শ্রেয়। 

বিবিসিঃ আলোচনা আছে যে, সরকার এ ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করছে?

আমি কিন্তু আগেই বলে দিয়েছি যে, সরকার কি কি প্রয়োজনে এ ধরনের ব্যবহার করে এবং সেটা কিভাবে করে। 

বিবিসিঃ অনুমতি সাপেক্ষে এটা ব্যবহার হচ্ছে প্রায় সময়?

মন্ত্রীঃ আমি এ কথা বলিনি, সেই রকম প্রয়োজন হলেই সরকার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের যে প্রবিশন ধারা ৯৭ (ক) তে আছে। এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট এ যে প্রভিশন আছে সেই গুলি ব্যবহার করবে অনুমতি সাপেক্ষে। কিন্তু এখন ব্যবহার করা হচ্ছে এরকম কথা আমি বলিনাই এ ব্যাপারে আমি জানিওনা। 

বিবিসিঃ

সোস্যাল মিডিয়াতে প্রায় সময়ই এটা হচ্ছে যে, বিভিন্ন জনের ফোনালাপ ফাঁস হওয়া একটা সুস্পষ্ট আইন আছে এখানে, কিন্তু এ আইনের প্রয়োগ টা কতটা আছে সেটি নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন রয়েছে?

আইনমন্ত্রীঃ

আপনি যে বললেন, প্রয়োগের ব্যাপারটা, ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট যে করা হয়েছে, সেগুলি কিন্তু জনগনকে এ সব  প্রফাগান্ডা মিথা তথ্য প্রচার এগুলোকে রক্ষা করার জন্য তৈরী করা হয়েছে। এটা কিন্তু বাক স্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য করা হয়নি। এ ব্যাপারে যদি আরো আইন করার প্রয়োজন হয় তাহলে সরকার সেটা করবে। 

সর্বশেষ - বিদেশে চাকুরি