বুধবার , ১২ অক্টোবর ২০২২ | ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. English Version
  2. Gov. Job
  3. Jobs News
  4. TOP JOBS
  5. অনলাইন টিউটরিয়াল
  6. অপরাধ সংবাদ
  7. ইপিজেড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
  8. গার্মেন্টস্ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
  9. গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ
  10. জাতীয় সংবাদ
  11. পরীক্ষার ফলাফল
  12. বিদেশে চাকুরি
  13. বিভাগীয় সংবাদ
  14. বেসরকারি চাকুরি
  15. ভাইরাল সংবাদ

সরাদেশে বিদ্যুতের চরম ভোগান্তি

প্রতিবেদক
বাংলা সার্কুলার
অক্টোবর ১২, ২০২২ ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
লোডশেডিং

সারাদেশে বিদ্যুৎ লোডশেডিং এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ আসে তো আবার যায়। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে। লোডশেডিংয়ের কারণে শুধু যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প খাত, দেখা দিচ্ছে পানি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা। কিছুদিন আগেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে লোডশেডিং হওয়ার খবর বেশি পাওয়া যেত। কিন্তু এখন বাদ যাচ্ছে না খোদ রাজধানী ঢাকাও।

বিগত দশ বছরের মধ্যে এবারই গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎহীন থাকছেন। বিভিন্ন এলাকাভেদে দিনে ৩ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। আর এ পরিস্থিতির শিগগিরই কোনো উন্নতি হবে না। দেশে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি নভেম্বরের আগে হওয়ার আশা নেই। এ ব্যাপারে  আপাতত কিছু করারও নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এদিকে লোডশেডিং বাড়লেও গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কমেনি। অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ-সাত হাজার টাকার অতিরিক্ত বিল গ্রাহকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী,

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে সাংবাদিকদের নসরুল হামিদ বলেন, গরমের তীব্রতা না কমলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তাপমাত্রা কমার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। লোডশেডিং নিয়ে আপাতত কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংকটে পড়েছে। এ খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কারণে সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন করা যাচ্ছে না। স্পট মার্কেটে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির দাম বাড়ায় তা আমদানিও করা যাচ্ছে না। এসব কারণেই মধ্যরাতেও লোডশেডিং হচ্ছে।

সোমবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, গ্যাস আনতে না পারায় নভেম্বরের আগে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতির আশা নেই। লোডের কারণে দিনের বেলা কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবার দিনে যেগুলো চালানো হচ্ছে তা রাতে বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ জন্য লোডশেডিংয়ের জায়গাটিও বড় হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এখন তেল-গ্যাসের বাড়তি দাম। অর্থ সংকটের কারণে চাইলেও সরকার জ্বালানির আমদানি বাড়াতে পারছে না। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের আমদানি কমাতে হচ্ছে।

সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা

পেট্রোবাংলার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, এক বছরের মধ্যে এখন সবচেয়ে কম এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস জাতীয় পাইপলাইনে আসছে। এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা আগে ৭৫ থেকে ৮৫ কোটি ঘনফুটে ওঠানামা করত। দেশে এখন গ্যাসের চাহিদা ৪১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। বিপরীতে সোমবার স্থানীয় ও আমদানি মিলিয়ে ২৬১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, জ্বালানি সংকট, ইঞ্জিন-যন্ত্রপাতিতে সমস্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রবিবার পর্যন্ত দেশে চালু থাকা ১৫০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টিতে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়নি। এর বাইরেও জ্বালানির অভাবে ৪২টি কেন্দ্র সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। গ্যাস না পেয়ে আটটি কেন্দ্র এবং জ্বালানি তেল না পেয়ে দুটি কেন্দ্র চালুই করা যায়নি। ৩১টি কেন্দ্রের ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ৭১০ মেগাওয়াট। বিপরীতে দিনে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৩৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের পরামর্শক সংস্থা পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য যে আমরা নভেম্বর পর্যন্ত বসে থাকব এমন নয়। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। যার প্রমাণ গত দুই রাতে পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হয়েছে। আশা করছি আজ (গতকাল) রাতে পরিস্থিতি আরেকটু ভালো হবে। আমাদের ২১ হাজার মেগাওয়াটের ক্যাপাসিটি। আর প্রয়োজন হয় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ যে ৩০-৪০টি কেন্দ্র বন্ধ আছে সেগুলো বাদ দিয়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন নয়। কিন্তু গ্যাস নেই বলেই আজ এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে ৬ হাজার এমএমসিএফটি গ্যাস পেতাম, তা ৫ হাজার এমএমসিএফটিতে নেমে এসেছে। এ থেকে যদি আমরা ৫০০ এমএমসিএফটি গ্যাসও বেশি পাই তাহলে তা স্বস্তিদায়ক হবে। মূল সমস্যা হচ্ছে পূর্বাঞ্চলে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহে। রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও খুলনায় এ সমস্যা নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘লোডশেডিং যে শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য হচ্ছে এমন নয়।

আবার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। প্রকৃতিগতভাবেই তাপমাত্রা কমে এলে লোডশেডিং কিছুটা কমবে। জ্বালানি মন্ত্রীর এ বিষয়টি পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে এত দিনে এ খাতে বিশাল যে আয়োজন, বিচার-বিশ্লেষণ- সব অসাড় প্রমাণিত হলো। আগে যেমন মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল, প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ‘গরমের তীব্রতা না কমলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে না’ বলে সেই অবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ কী করেছে। কোথায় এত পয়সাকড়ি খরচ করেছে! আমাদের এখন সংকট মূলত টাকা ও ডলারের। আমাদের পুরো সাপ্লাই চেইনে আমরা যা বলছি লুণ্ঠনমূলক ব্যয়, আমদানি, উৎপাদন, সঞ্চালন থেকে বিতরণ পর্যায় পর্যন্ত সব জায়গা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগকে লুণ্ঠনমুক্ত করার সক্ষমতা কর্তৃপক্ষের কারও নেই। বিদ্যুৎ খাতে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার ইচ্ছা এ খাতের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।’

বিদ্যুৎ যায় আর আসে

এর আগে সরকার চলতি অক্টোবর থেকে লোডশেডিং পুরোপুরি কমবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু লোডশেডিং উল্টো বেড়েছে। রাজধানীর বাইরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলা করতে ১৯ জুলাই থেকে দিনে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। সে সময় সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভালো হবে বলা হলেও উল্টো লোডশেডিং বেড়েছে। রাজধানী ঢাকায় এখন ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং অন্য জেলাগুলোতে ১০ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। অবস্থা এতই খারাপ যে ছুটির দিনেও এখন বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে। মধ্যরাতে থাকছে না বিদ্যুৎ। ভাপসা গরমে ছোট শিশু ও বয়স্কদের ঘুমের ব্যাঘাত বেশি হচ্ছে। স্বস্তিতে নেই অন্য বয়সীরাও। মিরপুরের পল্লবী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদা জামান বলেন, ‘আমার তিন বছরের সন্তান দুপুরে বা রাতে যখন ঘুমাতে যায় তখনই লোডশেডিং শুরু হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ছেলে আমার ঘেমে যায়, ঘুমও ভাঙে। আমরা বড়রাই গরম সহ্য করতে পারছি না, ছোটদের কথা তাহলে ভাবুন!’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র বলছে, ভারত থেকে আমদানির বাইরে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৯ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৯ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। আর এখন চাহিদা আছে ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন সক্ষমতার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে না শিল্প-কারখানা। এদিকে লোডশেডিং বাড়ার কারণে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় ওয়াসার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর মহাখালী, দক্ষিণ দনিয়া, বায়তুল আমান হাউজিং, উত্তর বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় পানির সংকটে মানুষ রান্না ও গোসল করার মতো নিত্যদিনের কাজ করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের ব্যবসাও বন্ধ হওয়ার পথে। এদিকে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণে যেখানে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল কম আসার কথা, সেখানে উল্টো তাদের বেশি বিল পরিশোধ হচ্ছে। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ডেসকোর গ্রাহক নম্বর ৩৪২৫১০৪১। জুন মাস পর্যন্ত এ গ্রাহকের বিল গড়ে ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি হতো। জুলাই মাস থেকে লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর গড়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৬০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। সে কারণে সাধারণ হিসাবেই বিদ্যুৎ বিল আগের মাসের চেয়ে কম হওয়ার কথা। অথচ আগস্ট মাসে এ গ্রাহকের বিল এসেছে ১৭ হাজার ২৯৫ টাকা। সেপ্টেম্বরে বিল এসেছে ১৭ হাজার ২৩২ টাকা। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করার পরও ডেসকো থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে এ গ্রাহক অভিযোগ করেন।  গ্রাহকের প্রশ্ন হলো, মাসে গড়ে ৬০-৮০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়েনি। অথচ বিল বেড়েছে ৭ হাজার টাকারও বেশি। এই ভুতুড়ে কারবারের কারণ কী!

সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সর্বশেষ - বিদেশে চাকুরি

আপনার জন্য নির্বাচিত